আলোচিত রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র গ্রেপ্তার, অর্থপাচার মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে সিআইডির অভিযানে আটক; ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে চলছে তদন্ত।

by ABDUR RAHMAN
আলোচিত রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থপাচার মামলায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর এ আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন
banner

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতারণা, হুন্ডি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। এসব অর্থের প্রায় পুরোটাই পরে উত্তোলন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ জমা হলেও সেসব লেনদেনের সঙ্গে তার পরিচিত পেশার মিল পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান জানান, গ্রেপ্তারের পর মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। আর্থিক সংকটের মধ্যে বেড়ে ওঠা হরিদাস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে ভারতে চলে যান। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থানের পর ২০২৪ সালে নিজ এলাকায় ফিরে এসে গ্রামের পুরোনো কালী মন্দির সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। পরে মন্দিরের নাম পরিবর্তন করে ‘শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির’ রাখা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মূর্তি নির্মাণের অর্থায়নের উৎস নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয় এবং বিভিন্ন সংগঠন অর্থের উৎস তদন্ত ও নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানায়। পরে গত ৯ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ রাম মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হরিদাস চন্দ্রের অতীত কর্মকাণ্ডও বর্তমান তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসারের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী তদন্তে তার আর্থিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিকও সামনে আসে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ