ঢাবি ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি ও হল দখল বন্ধই গত এক বছরের বড় সাফল্য: এস এম ফরহাদ

‘নিজেরা হল দখল করব না, অন্যকেও করতে দেব না’ নীতিতে ঢাবিতে পরিবর্তন এসেছে দাবি ইসলামী ছাত্রশিবির নেতার; নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান।

by ABDUR RAHMAN
ঢাবি ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি ও হল দখল বন্ধই গত এক বছরের বড় সাফল্য

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

‘আমরা নিজেরা কোনো হল দখল করব না এবং অন্য কাউকেও তা করতে দেওয়া হবে না’—এমন সুনির্দিষ্ট অবস্থানের কারণেই ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ে হলে সিট দখল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন ডাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ। তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত রাখা এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় সফলতা।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই মতবিনিময় সেশনে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর নানা প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন তিনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে এস এম ফরহাদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯০, ১৯৯১, ২০০০ কিংবা ২০০৮ সাল—প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের পর বিজয়ী বা ক্ষমতাসীনেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো দখল করেছে এবং প্রতিপক্ষকে মারধর করে বের করে দিয়েছে। এমনকি নব্বইয়ের দশকেও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পরপরই ক্যাম্পাসে গোলাগুলি, বোমাবাজি ও ক্যাম্পাস বন্ধের ঘটনা নিয়মিত চিত্র ছিল। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ছাত্রশিবির বিজয়ী হয়ে হল দখলের সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।

ডাকসুতে নিজেদের নৈতিক অবস্থানের দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বলেন, স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শ্রেণি শেষ হওয়ার পরপরই নিয়ম অনুযায়ী তিনি নিজে এবং ভিপি ও এজিএস হলে থাকার সুযোগ সত্ত্বেও রুম ছেড়ে দিয়েছেন, যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য সিটে থাকতে পারেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের দোকানপাট ও আশপাশের মার্কেটগুলোতে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট এখন পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশের ওপর জোর দিয়ে ডাকসু জিএস বলেন, ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। সংগঠনের অফিসিয়াল পেজ, ই-মেইল কিংবা ফোন নম্বরের মাধ্যমে যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ জানানোর পথ খোলা রাখা হয়েছে। ভুলত্রুটি শুধরে সামনে এগোনোর জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিঃসংকোচে ছাত্র শিবিরের কার্যক্রমের সমালোচনা করার আহ্বান জানান।

গুরুদয়াল কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক আহসান উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শেখ মো. রোকন রেজা, জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাহফুজ, জেলা সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদসহ অনেকে।

উল্লেখ্য, আলোচনা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি আয়োজনে ছিল ইসলামী সংগীত, কাওয়ালি পরিবেশনা ও নাটক, যা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ