ভারতবিরোধী নয়, আধিপত্যবাদের বিরোধী এনসিপি: আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকীতে আসিফ মাহমুদ

আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকীতে ঢাবিতে আলোচনা সভা; জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে চুক্তি না করার আহ্বান এবং অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানি হিস্যা ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি এনসিপি নেতাদের।

by ABDUR RAHMAN
আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকীতে আসিফ মাহমুদ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

বিশ্বের যেকোনো রাষ্ট্র বা দেশের সঙ্গে বৈদেশি সম্পর্কের মূল ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের প্রতি বৈরী ভাবাপন্ন না হয়ে তারা মূলত আধিপত্যবাদী নীতির বিরোধী।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী স্মরণে ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লি আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গ’ শিরোনামে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনাকে কেবল মুখের বুলি বা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাঝে বন্দী রাখলে চলবে না; বরং দেশের নীতিনির্ধারণী ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগ্রহণে এর বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে হবে। যেকোনো চুক্তি যদি দেশের জন্য সুফল বয়ে আনে এবং এতে ঝুঁকি না থাকে, তবে তা গ্রহণে বাধা নেই। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা বরদাশত করা হবে না।

আলোচনা সভায় আবরার ফাহাদ ঘোষিত ‘আট স্তম্ভ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও গণপ্রতিরোধের মতো মূলনীতিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আবরার ফাহাদ নিজের প্রাণের বিনিময়ে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। দেশের স্বার্থে কথা বলার কারণেই তাকে নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিল।

সীমান্ত পরিস্থিতি ও অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, গঙ্গা ও তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা বর্তমান সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষার অজুহাতে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যার নির্মম চর্চা আর মেনে নেওয়া যায় না। যেকোনো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ