আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির ৩ শিক্ষকসহ ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থায়ী বহিষ্কার

১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর প্রশাসনিক বড় পদক্ষেপ

by ABDUR RAHMAN
আবু সাঈদ হত্যা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেরোবির সিন্ডিকেট সদস্য সচিব ও ভারপ্রাপ্ত registrar অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বহিষ্কৃত শিক্ষকদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল (আসাদ মণ্ডল)।

এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বহিষ্কৃত হয়েছেন—তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান (তুফান), সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান (বাবু), এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক ঘোষিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের সত্যায়িত কপি হাতে পাওয়ার পর তা সিন্ডিকেট সভায় পেশ করা হয়। পরবর্তীতে পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ‘শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থেকেই’ সিন্ডিকেট এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন আবু সাঈদ। পরবর্তী সময়ে তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে ওই স্থানটির নাম রাখা হয় ‘শহীদ আবু সাঈদ গেট’। অতি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিচার প্রক্রিয়া শেষে এ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং অপর ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ