অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নির্মম হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে সাবেক সহকারী প্রক্টর হিসেবে শিক্ষিকার পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের কোনো প্রতিশোধ ছিল কি না, কিংবা ধারের পাঁচ হাজার টাকা ও আইফোন কেন্দ্রিক কোনো বিরোধ ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এছাড়া গ্রেপ্তার চার আসামির প্রকৃত বয়স নির্ধারণে প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন সহকর্মীরা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এক প্রতিবাদী মানববন্ধনে এসব দাবি তোলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা। তিনি জানান, ড. নাহিদা বেগম সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন যেসব কিশোর গ্যাং সদস্যকে সোপর্দ করেছিলেন, গ্রেপ্তার তুহিন তাদেরই দলভুক্ত কি না এবং সেই ঘটনার জেরেই অপ্রতিমকে প্রাণ দিতে হলো কি না, তা গুরুত্বের সাথে পুলিশের দেখা উচিত। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে কেউ অপ্রাপ্তবয়স্কতার অজুহাতে ছাড় না পায়, সেজন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন ও তাদের সুনির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, নিহত অপ্রতিমের পিতা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে ১০ দিন আগে চাকরি নেওয়া এক কিশোর ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে অপ্রতিমের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, অপ্রতিম মারা গেলে সেই টাকা আর দিতে হবে না—এমন ভাবনা থেকেও পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। প্রথমে গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেও সঙ্গীদের নাম বলতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে তার মোবাইলে আসা একাধিক কল ট্রেস করে পুলিশ অন্য আসামিদের আটক করে।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত করার দাবি জানান এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পরদিন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

