অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জিটুজি (সরকার টু সরকার) প্রক্রিয়ায় ভারত থেকে আমদানি করা চালের এক বিশাল চালানে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত ‘আফলাটক্সিন’-এর উপস্থিতি রয়েছে—এমন গুরুতর আশঙ্কায় সারা দেশের খাদ্য বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে চরম সংশয় দেখা দেওয়ায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল গুদামে মজুত করা প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টন চালের বিতরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
নথিসূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই এমভি এইচটি পাইওনিয়ার নামের একটি জাহাজে করে সাড়ে ১০ হাজার টন চালের এই আন্তর্জাতিক চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোর্ঙরে এসে পৌঁছায়। প্রারম্ভিক ছাড়পত্র পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে চালগুলো পৌঁছাতে শুরু করে। তবে কিছুদিন যেতেই সংগৃহীত চালের রঙ লালচে রূপ ধারণ করে এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে, যা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আসে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচারে খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি নির্দেশে ইতিমধ্যে খাদ্য অনুপযোগী ও পচে যাওয়া ৯৮৪ টন চাল মূল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে যে, ফিরিয়ে দেওয়া এই নিম্নমানের চালই অসাধু পন্থায় নতুনভাবে খাদ্য অধিদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা কিংবা পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।
এদিকে গত ১১ সেপ্টেম্বর ভোরে এই সংবেদনশীল তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ পেলে প্রশাসনের টনক নড়ে। এর আগে সার্বিক মান বিচারে গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির চালনায় দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সরজমিনে পরিদর্শনে যান। তারা চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট ও হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম (সিএসডি) থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেন। বর্তমানে গাজীপুরের বিশেষায়িত গবেষণাগারে ওই নমুনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রতিনিধিদলের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক রাসায়নিক পর্যবেক্ষণে আফলাটক্সিন জাতীয় মারাত্মক উপাদানের আলামত পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি শতভাগ নিখুঁতভাবে নিশ্চিত হতে নিবিড় পরীক্ষা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। গবেষণাগারের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই চাল কোনোভাবেই বাজারে বা সরকারি কর্মসূচিতে সরবরাহ না করার কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের সূত্র জানায়, উদ্বেগের মুখে ঢাকার তেজগাঁও, গাজীপুরের জয়দেবপুরসহ অন্যান্য স্থানে পাঠানো এ চালের চালানগুলো নিরাপত্তার খাতিরে পুনরায় চট্টগ্রামে ফেরত এনে কেন্দ্রীয় গুদামে স্থানান্তর করা হয়েছে। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

