অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার গঠনের পর গত ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও বিএনপি জুলাই সনদের একটি দফাও মেনে চলেনি। তারা চাইলে দেশের মানুষের কাছে ‘নায়ক’ হতে পারত, কিন্তু নিজেদের কর্মকাণ্ডে তারা আজ ‘ভিলেনে’ পরিণত হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় দেওয়া বক্তব্যে তাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর দলটি বার বারবার প্রতিশ্রুত জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার অঙ্গীকার করেছিল। অথচ বাস্তবে তারা এর প্রতিটি পদক্ষেপে বিরোধিতা করে চলেছে। এমনকি নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফার সঙ্গেই দলটি সরাসরি বেইমানি করে জাতীয় আকাঙ্ক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় সংসদে গৃহীত রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত গণঅভ্যুত্থানের পর অলিখিত এক ধারায় দেশ পরিচালিত হলেও জনগণের রায়ের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের যে স্পষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা এক ব্যক্তির অহংবোধ ও ইগোর কারণে ভেস্তে যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো আবারও ‘সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই’—এমন দোহাই দেওয়া হচ্ছে। অথচ বর্তমান সংবিধানটির মূল ভিত্তি ৭০ সালের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের তৈরি, যা ধার করা হয়েছিল অন্য দেশের আইন থেকে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই সিনিয়র আইনজীবী জানান, সরকারের এমন ভূমিকার জবাবে সংসদে কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রধান বিরোধী দলও। এর ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সংসদের বাইরে বিভিন্ন হল ও সেমিনারে আলোচনার আয়োজন করতে হচ্ছে।
তাজুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে তারা বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধী নন। গুমবিরোধী আইন ও স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “প্রয়োজনে আগামী নির্বাচনেও আমরা লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়ে আবারও ক্ষমতায় আনব, তবুও শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া জুলাই সনদ ও মৌলিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করুন।”
আর/

