অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জাতীয় সংসদে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণ নিয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি একদিন বা সাত দিনের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে বর্তমান সরকারের ছয় মাস সময় পার হওয়ার পরও ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করতে এত সময় লাগছে কেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব ও সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
বগুড়া-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান। তাঁর মতে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো গেলে চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও শিক্ষিত বেকারদেরও কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নোটিশের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের স্বার্থে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে। তবে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম আইন ও বিধি মেনেই পরিচালনা করতে হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ক্রয়কারী কার্যালয়গুলো বিদ্যমান পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস অনুসরণ করে ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় PPR 2025 এবং সংশ্লিষ্ট e-GP নির্দেশনাও কার্যকর করা হয়েছে।
এ সময় সম্পূরক প্রশ্নে মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখন সেই বাধা দূর করে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ইন্টেরিম গভমেন্ট যদি এটাকে একদিন বা সাত দিনে পারে, তাহলে আমাদের সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা উচিত।’ তিনি দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাৎক্ষণিকভাবে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বর্তমান নির্বাচিত সরকার একইভাবে কাজ করার সুযোগ পায় না। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইন-কানুন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তিনি বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে অনেক সময় কিছুটা সময় লাগে এবং আইন ও নিয়মের মধ্য দিয়েই এগোতে হয়। তবে মোশারফ হোসেনের বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত যুক্তিসংগত’ বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, আগের সময়ে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে দূরে রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে মন্ত্রিসভার একটি সাব-কমিটি কাজ করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। অচিরেই সেটি সংসদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
আইনমন্ত্রীর ভাষ্য, নতুন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি ক্রয়খাতে থাকা সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন ধরনের বাধা ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই আইনি প্রক্রিয়ায় এসব সিন্ডিকেট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে e-GP ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালে সংশোধিত e-GP Guidelines প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, e-GP ব্যবস্থার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো অন্যতম।
আর/

