জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতির আহ্বান; শূরা অধিবেশনে গৃহীত হলো নয় দফা প্রস্তাব

by ABDUR RAHMAN
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২০২৫–২০২৬ সেশনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় অধিবেশনে দলের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের দাবিতে দলের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

বিজ্ঞাপন
banner

শনিবার অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি জানান, আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও কার্যকর করতে দল সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বক্তব্য, সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ যেন চলমান আন্দোলনকে দুর্বল না করে এবং জনগণের ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অধিবেশন পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। এতে অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আকরাম আলী, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা আলী উসমান, মুফতি সাঈদ নূর ও মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী বক্তব্য দেন।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সার্বিক বাস্তবতা এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ইসলাম, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর কল্যাণকে সামনে রেখেই দলের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। যোগ্য, সৎ, দক্ষ ও জনস্বার্থে নিবেদিত ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, দাওয়াতি কার্যক্রম, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, প্রচার, প্রকাশনা, যুব ও ছাত্র কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নয় দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবনায় সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন ও নীতিমালা অকার্যকর ঘোষণার সাংবিধানিক বিধান সংযোজন এবং আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলামের অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বানও জানানো হয়।

এ ছাড়া গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলা বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান এবং ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

নয় দফা প্রস্তাবে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশ-ইন বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ