অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম সংগঠন থেকে সাংগঠনিক ছুটি নিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সেশনের ষাণ্মাসিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আরও আটজন কেন্দ্রীয় সম্পাদককেও আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগঠনিক ছুটি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ। তিনি জানান, সংগঠনের নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাংগঠনিক ছুটির পর সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন সাদিক কায়েম। সেখানে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন। দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে। সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সঙ্গে।”
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, এই সংগঠন তাকে দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে, জড়তা ভেঙে কথা বলতে শিখিয়েছে এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশেও ইসলামী ছাত্রশিবির তাকে পথনির্দেশনা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংগঠনের স্মৃতিচারণ করে সাদিক কায়েম লেখেন, পেছনে ফিরে তাকালে অসংখ্য প্রিয় মুখ ও সংগ্রামী সময়ের কথা মনে পড়ে। দীর্ঘ সময়ে দায়িত্বশীল ও কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সান্নিধ্যকে তিনি জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন সংগঠনের কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক কবুল হয় এবং ভবিষ্যতেও তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করার তাওফিক লাভ করেন।
ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক ছুটি পাওয়া অন্য সম্পাদকরা হলেন— কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান এবং দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।
উল্লেখ্য, সাদিক কায়েম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের দায়িত্বে সক্রিয় ছিলেন। খাগড়াছড়ির বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদরাসা থেকে দাখিল এবং বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। একই বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।
বাংলাদেশের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনে নির্দিষ্ট সময় পরপর নেতৃত্ব ও দায়িত্বে পরিবর্তন আনা একটি নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। এ ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পূর্ববর্তী দায়িত্বশীলরা সংগঠনের অন্যান্য পর্যায়ে বা ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে মনোনিবেশের সুযোগ পান।
আর/

