অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখন আপনাদের দাসদের রাজত্ব নেই। আপনাদের দাস-দাসীরা দিল্লিতে চলে গেছে। আমরা আপনাদের দাস নই। যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চান, তাহলে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে নিন এবং পুশইন বন্ধ করুন।”
ভারতের কিছু ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ‘রংপুর দখল’ বা ‘রংপুর কিনে নেওয়া’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কর্নেল অলি বলেন, “আপনারা যদি বলেন রংপুর দখল করবেন, আমরাও বলব কলকাতা দখল করব। আগের দিন শেষ, এখন নতুন জমানা শুরু হয়েছে। এদিকে পা বাড়ালে একে একে কলকাতা, হিমাচল ও কাশ্মীরও হারাবেন। তাই এদিকে পা বাড়াবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “এটা কি মগের মুল্লুক নাকি? আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশকে নিয়ে হাসি-তামাশা করার সুযোগ নেই।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভারতীয় হাইকমিশনার একই আকাশ, একই বাতাসের কথা বলেন। কিন্তু যদি সত্যিই সুসম্পর্ক চান, তাহলে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কেন, প্রতিদিন পুশইন কেন? ফারাক্কা ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ কেন পাবে না?”
দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বা যুদ্ধবিমান কিনবে, তা সম্পূর্ণ দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। অন্য কোনো দেশের এ বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই।
সমাবেশে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে কর্নেল অলি বলেন, দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গের শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে দেশের যুবসমাজ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, চারদিকে বিরোধ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তিনি দ্রুত নির্বাচনী ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশন, দুদক ও পিএসসিসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না—এ ধরনের সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্য থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন কর্নেল অলি। তিনি সরকারকে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শেষ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভাগীয় সমাবেশের পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কর্মসূচি চালানো হবে।
আর/

