রংপুর সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান: সীমান্ত ও তিস্তা ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহি দরকার

রংপুরের সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের অংশগ্রহণ; ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার

by ABDUR RAHMAN
রংপুর সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে প্রতিবেশী দেশ ভারত বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
banner

শনিবার (তারিখ) বিকালে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, “বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধের জন্য বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে জনগণও সমানতালে লড়াই করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সমাবেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তিস্তা নিয়ে কোনো ধরনের গড়িমসি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে আন্দোলন হলেও বর্তমান বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, “আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। আগামীতে ১১ দলীয় ঐক্য সরকার গঠন করতে পারলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, রংপুর বিভাগকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আলু চাষিদের সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের খরচ কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুর্নীতিবাজরা একত্রিত হয়ে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ১১ দলকে পরাজিত করেছে। তিনি বলেন, জনগণ ভবিষ্যতে এমন সুযোগ আর দেবে না।

গণভোট বাস্তবায়নের দাবির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এ দাবি থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও ঘোষণা দেন, ১১ দলীয় ঐক্য সরকার গঠন করলে দেশে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের কোনো স্থান থাকবে না। এমনকি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

সমাবেশে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের প্রতিটি নারী-পুরুষই দেশের শক্তি। জুলাইয়ের আন্দোলনে জনগণ এর প্রমাণ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ