বাংলাদেশ সীমান্তে প্রশাসনিক শক্তি বাড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, নতুন থানা-ফাঁড়ি গঠনের উদ্যোগ

সীমান্তে নজরদারি, অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ; রাজ্য সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষা

by ABDUR RAHMAN
বাংলাদেশ সীমান্তে প্রশাসনিক শক্তি বাড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে তিনটি নতুন থানা এবং তিনটি পুলিশ ফাঁড়ি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এ লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন
banner

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নয়, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশি সেবা সহজলভ্য করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, বর্তমানে থাকা তিনটি পুলিশ ফাঁড়িকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ (গোপালগঞ্জ), বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভীরা এবং হবিবপুর থানার বুলবুলচণ্ডী পুলিশ ফাঁড়ি।

এছাড়া হবিবপুরের জাজইল, বামনগোলা থানার জগদল্লা এলাকায় দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং ইংরেজবাজারের লুকোচুরি পুলিশ ফাঁড়িকে আরও শক্তিশালী বা উন্নীত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, সীমান্তবর্তী অধিকাংশ এলাকা বর্তমানে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন থানা ও ফাঁড়ি চালু হলে সীমান্ত এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়বে, জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রশাসনিক ইউনিট চালু হলে বিএসএফসহ অন্যান্য আধা-সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নতুন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হলে সীমান্ত এলাকার মানুষ দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাবেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদনের পর পর্যায়ক্রমে এসব থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ