অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
উড্ডয়নের প্রস্তুতিতে থাকা এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটকে এক যাত্রীর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে—এমন অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় প্রায় ১০০ যাত্রী কয়েক ঘণ্টা ভোগান্তির শিকার হন এবং পরে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয় বিমান সংস্থাটি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইট ২এ-৪১৫-এর বোর্ডিং সম্পন্ন হওয়ার পর বিমানটি ট্যাক্সিওয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় এক যাত্রী দাবি করেন, তিনি নিজের বিয়ের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে এসেছেন। এরপর তিনি নাকি কেবিন ক্রুদের বিমান থামিয়ে সেটি আনার ব্যবস্থা করতে বলেন।
যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেবিন ক্রু নিয়মের কথা জানিয়ে এমন অনুরোধ সম্ভব নয় বলে জানালে ওই যাত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরে ককপিটে গিয়ে পরিচিত একজন পাইলটের সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই বিমানটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয় বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, একজন যাত্রীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে পুরো ফ্লাইট প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বিত হয়। এ সময় প্রায় ১০০ যাত্রী বিমানের ভেতরে অপেক্ষা করেন। তাদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার বা পানির ব্যবস্থা করা হয়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এয়ার অ্যাস্ট্রা জানায়, ফ্লাইটটি ফিরিয়ে আনার কারণ ছিল বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থার ত্রুটি। তবে একাধিক যাত্রীর দাবি, শুরুতে বিমানের ভেতরে দেওয়া ঘোষণায় শেরওয়ানির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল, এসির কোনো সমস্যার কথা বলা হয়নি। এ কারণেই বিমান সংস্থার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো যাত্রী মাঝপথে বিমান থেকে নেমে গেলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী তার লাগেজ নামিয়ে পুনরায় নিরাপত্তা পরীক্ষা করার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, কোনো ব্যক্তি তাঁর পেশাগত পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারেন না। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আর/

