দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে জোরালো উদ্যোগ, সমুদ্রেও বিস্তৃত হচ্ছে অনুসন্ধান

এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন কূপ খনন, অফশোর অনুসন্ধান ও বিদেশি বিনিয়োগে গুরুত্ব

by ABDUR RAHMAN
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে জোরালো উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করেছে সরকার। স্থলভাগের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের অগভীর ও গভীর সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান সম্প্রসারণ, নতুন কূপ খনন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে নতুন গ্যাসকূপ খনন ও পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রম বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি কূপে কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখান থেকে নতুন গ্যাস পাওয়া গেছে। জাতীয় গ্রিডে নতুন গ্যাস সরবরাহও শুরু হয়েছে। বর্তমানে আরও কয়েকটি কূপে খনন ও সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা উৎপাদনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় উল্লেখযোগ্য অংশ এলএনজি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্যও বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা ও সরবরাহ সংকটের কারণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বাপেক্সের অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ড্রিলিং রিগ সংগ্রহ, ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং দ্বিমাত্রিক (২ডি) ও ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে নতুন অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) আরও বিনিয়োগবান্ধব করে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশোধিত চুক্তিতে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও অন্যান্য প্রণোদনার বিষয়ও রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশীয় গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কৃত হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে জ্বালানির সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে। তবে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্প্রসারণ সময়োপযোগী হলেও গ্যাসের নতুন মজুত পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবুও সম্ভাব্য সম্পদের প্রকৃত চিত্র জানতে অনুসন্ধানের বিকল্প নেই। নতুন অনুসন্ধানের ফলাফল ভবিষ্যতের জ্বালানি পরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মনে করছেন।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ