তিনবিঘা করিডোরসহ লালমনিরহাট সীমান্তে উত্তেজনা, বিএসএফের ‘খুঁটি স্থাপন’ ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ

সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি; দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে

by ABDUR RAHMAN
বিএসএফের ‘খুঁটি স্থাপন’ ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

লালমনিরহাট ও তিনবিঘা করিডোর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় বাঁশের খুঁটি স্থাপন, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে গুলিবর্ষণ এবং ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তিনবিঘা করিডোর এলাকায় নতুন করে খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করা হয়, যা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে চোরাচালান প্রতিরোধের নামে সীমান্ত এলাকায় ফাঁকা গুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে ড্রোন আছড়ে পড়ার মতো ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যা নিয়ে সীমান্তবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, রংপুর ৫১ বিজিবি এবং ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ১৪ মে হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি সীমান্তে খাদেমুল ইসলাম (২৪) এবং ৮ এপ্রিল পাটগ্রাম সীমান্তে আলী হোসেন (৩৮) নিহত হন বলে জানা যায়।

এই ঘটনাগুলো সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফের গুলি, ধরে নিয়ে যাওয়া, নির্যাতন এবং কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের মতো ঘটনা আগের তুলনায় কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন সময় সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জবাবদিহির অভাব ও কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপের ঘাটতির কারণে সীমান্ত হত্যার ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত মাইকিং করছে এবং জনগণকে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ