আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কড়া ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের যেখান থেকে এসেছে, সেই পথেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করার পর ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করা হবে এবং অ-ভারতীয়দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেসের চেয়ে বাংলাদেশের জামাতিদের অস্বস্তি বেশি বেড়েছে।
নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি ভয় পাওয়ার মানুষ নন এবং বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। দেশের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্র রক্ষাকেই তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন।
শুভেন্দু জানান, ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় এসেছে। তিনি আরও বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের পরই বিএসএফকে সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত ইস্যুর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। গত রোববার কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আহত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, তোলাবাজি, ভাঙচুর, গুন্ডামি কিংবা সিন্ডিকেটরাজ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ ধরনের ঘটনায় তার সরকারের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’।
আসানসোলের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষয়ক্ষতির পুরো অর্থ আদায় করা হবে।
এদিকে একই দিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে ধর্মীয় ভিত্তিতে পরিচালিত বিভিন্ন ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় শুভেন্দু বলেন, সরকারের কাজ ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা দেওয়া নয়; বরং শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ তৈরি করা। ভাতার পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ এখন থেকে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপের সুবিধা হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা সমানভাবে পাবে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, পশ্চিমবঙ্গে আর তোষণের রাজনীতি চলবে না।
মমতা ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভবানীপুরের একাধিক বুথে বিজেপি এগিয়ে ছিল এবং জনগণ ইতোমধ্যেই মমতা ব্যানার্জিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। তার দাবি, তাদের একাধিক সম্পদের তথ্য সরকারের হাতে এসেছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করা হবে।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানে শিগগিরই একটি হেল্পলাইন চালু করা হবে বলেও জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্র: এবিপি

