অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
রাঙামাটি শহরে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পৌরসভা, কাঁঠালতলি, বনরূপা ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
সোমবার (৪ মে) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এসব এলাকায় অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সোমবার দুপুর থেকে তারা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক দখল করে বিক্ষোভ শুরু করে এবং টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।
একই সময়ে নতুন কমিটির সভাপতি মো. অলি আহাদ ও সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনির নেতৃত্বে সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা তিনটার দিকে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। পরে নতুন কমিটির সমর্থকরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া দিলে বিএনপি কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বনরূপা এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এবং পরে সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে। বর্তমানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। এতে মো. অলি আহাদকে সভাপতি, নাঈমুল ইসলাম রনিকে সাধারণ সম্পাদক এবং গালিব হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
পরদিন রোববার নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। ওই সময়ও রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন জানান, নতুন কমিটি ঘিরে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চললেও বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ বলেন, পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ স্বাভাবিক এবং আলোচনা করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
আর/

