সংসদের প্রথম অধিবেশন ‘ব্যর্থ’—সংস্কার না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

উচ্চকক্ষ, গণভোট ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গঠনের দাবি; সরকারের সমালোচনায় সরব এনসিপি

by ABDUR RAHMAN
নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু না করেই সরকার সংসদ পরিচালনা করেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিজ্ঞাপন
banner

তিনি সতর্ক করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো উপেক্ষা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে হতে পারে। তার ভাষায়, “সংস্কারের পক্ষে যারা ভোট দিয়েছে, তারা চুপ করে বসে থাকবে না।”

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক এক জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নেন এবং দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে যেন কোনো সরকার সংবিধান এককভাবে পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য একটি কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালান্স ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নয়, বরং একটি পৃথক সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে স্থায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এসব পরিবর্তন আদালতে বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও দুদকের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিও জানান তিনি। তার মতে, এসব প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষ না হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না।

রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অতীতে নেওয়া কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনো তার প্রভাব বিদ্যমান।

সংসদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিন্নমতগুলো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে সংরক্ষিত থাকলেও সিদ্ধান্তগুলো শেষ পর্যন্ত পাশ হয়ে যায়। ফলে প্রকৃত সংস্কারের জন্য গণভোটের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেতনাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার না হলে দেশে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তারা একটি কার্যকর ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কারের ওপর জোর দেন।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ