মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ইঙ্গিত? আরাগচি-শাহবাজ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

ইসলামাবাদে শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আরাগচির বৈঠক; তেহরান-ওয়াশিংটন মধ্যস্থতায় সক্রিয় পাকিস্তান

by ABDUR RAHMAN
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আরাগচি-শাহবাজ বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক কূটনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
banner

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে এবং বিশেষভাবে চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়। আরাগচি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি অবিচল সমর্থন এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ইসলামাবাদের প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। আরাগচি জেনারেল মুনিরের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি জানান, যুদ্ধবিরতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত মধ্যস্থতা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আরাগচি এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে তেহরানের নীতিগত অবস্থান ও প্রস্তাবনাগুলো পাকিস্তানের কাছে তুলে ধরেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আরাগচির বক্তব্য শোনার পর চলমান আলোচনার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান দ্বিতীয় দফার মধ্যস্থতা উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, ইরান-পাকিস্তান এই বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ