বার্ষিক আয় ১৪ লাখ, ৮৬ লাখ টাকার জিপ—বিএনপি প্রার্থী সাকিলা ফারজানার সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

বার্ষিক আয় তুলনায় বহুগুণ দামী গাড়ি ব্যবহার; স্বামীর আয় ও সম্পদও আলোচনায়

by ABDUR RAHMAN
বিএনপি প্রার্থী সাকিলা ফারজানা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানার হলফনামা বিশ্লেষণে তার আয় ও সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্যের বিষয় সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সাকিলা ফারজানার বার্ষিক আয় প্রায় ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে তিনি ব্যবহার করেন প্রায় ৮৬ লাখ টাকার একটি জিপ গাড়ি, যা তার আয়ের তুলনায় বেশ আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল জমা দেওয়া এই হলফনামায় দেখা যায়, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র এবং একটি বিলাসবহুল জিপ। এছাড়া তার নামে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটও রয়েছে।

পেশাগতভাবে তিনি আইনজীবী এবং তার আয়ের সম্পূর্ণ উৎস আইন পেশা থেকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে তিনি বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে এবং চট্টগ্রাম জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। এর আগে সাধারণ আসনে মনোনয়ন চাইলেও পাননি।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১২ মে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। সাধারণত সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে, তার স্বামী মো. বাহাউদ্দীনের আয় ও সম্পদ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় প্রায় ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর বড় অংশই আসে ব্যবসা থেকে, পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, শেয়ার ও অংশীদারি ফার্ম থেকেও আয় রয়েছে।

স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে ব্যাংক জমা, শেয়ার, বন্ড, এফডিআর, গাড়ি এবং স্থাবর সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং জমির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রার্থীদের হলফনামা এখন ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হয়ে উঠেছে। এতে প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা, আয়ের উৎস এবং সম্পদের বিবরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসব তথ্য আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ