আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়েই নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। লেবানন ও ইসরায়েল-এর মধ্যে কার্যকর থাকা ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের মনসুরি গ্রামে একটি মসজিদ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এর পাশের একটি কবরস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উভয় পক্ষ সংঘাত বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ধর্মীয় উপাসনালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
এদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েল এ পর্যন্ত ২০০ বারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব হামলা পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে এবং এতে বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের একটি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময় ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে মসজিদ ও কবরস্থানের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় আঘাত জনমনে ক্ষোভ বাড়াতে পারে এবং সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, বেসামরিক স্থাপনা এবং ধর্মীয় উপাসনালয় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় সুরক্ষিত—এগুলোতে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংস্থাগুলো অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধবিরতি থাকলেও বারবার তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে। ইতোমধ্যে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামলার এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে—এই উত্তেজনা কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং উভয় পক্ষ পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে কি না।
সূত্র: আল জাজিরা

