আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক কঠোর বার্তা এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সেনা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে শত্রুদের দুর্বলতা বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করেছে। তাঁর ভাষায়, ইরানের ড্রোন হামলা শত্রুদের ওপর ‘বজ্রপাতের মতো’ আঘাত হানছে এবং নৌবাহিনী যে কোনো পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে প্রস্তুত।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আরেক বক্তব্যে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘শোচনীয়ভাবে পরাজিত’ করা হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই বার্তাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র বলছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এমনকি ইরান পুনরায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশ্বের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন এই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এর বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ জারি করেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো সময় সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রায় শুরু হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।
মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় বর্তমান যুদ্ধকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান সবসময় প্রতিরোধের মাধ্যমেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই পথেই এগোবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত এবং সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গভীরভাবে পড়তে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা

