নিজের দেশেই চাপে ট্রাম্প—অপসারণের দাবিতে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

by ABDUR RAHMAN

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবিতে ওয়াশিংটন এখন উত্তাল। তার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে তাকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন একাধিক আইনপ্রণেতা। এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম বিবেচিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেন।

অ্যারিজোনার কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি এক্সে লিখেছেন, “ট্রাম্প একটি ভয়াবহ ও অবৈধ যুদ্ধকে আরও উসকে দিচ্ছেন, ব্যাপক যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন এবং ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় তার বক্তব্য সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”

মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এটা ঠিক নয়। ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করুন। ইমপিচ করুন। অপসারণ করুন। এই ভারসাম্যহীন উন্মাদ ব্যক্তিকে পদ থেকে সরাতে হবে।”

নিউ মেক্সিকোর কংগ্রেসওম্যান মেলানি স্ট্যান্সবারি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বলেন, “২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের সময় এসেছে। কংগ্রেস ও মন্ত্রিসভাকে পদক্ষেপ নিতে হবে।”

এদিকে, সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো ওয়ালশ মন্তব্য করেন, “তিনি চিরকাল এই দেশ এবং বিশ্বের জন্য কলঙ্ক হয়ে থাকবেন। এখনই ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করুন।”

ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন,“আমি যদি ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তাহলে ইস্টারের সময় সাংবিধানিক আইনজীবীদের সঙ্গে ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করতাম। এটি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণহীন। তিনি ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছেন। তিনি আরও হাজার হাজার মানুষ হত্যা করবেন।”

এছাড়া ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ (AOC) সরাসরি ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি জানিয়ে অভিযোগ করেন, তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই দেশকে একটি বিপজ্জনক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং তার “মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে”।

বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। কারণ, ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করতে তার নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতি, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস এবং পেন্টাগনে সম্ভাব্য রদবদল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

এই অবস্থায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান প্রণালী খুলে না দিলে তারা দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন—যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্র এখন এক অস্থির সময় পার করছে। প্রশ্ন উঠেছে—ট্রাম্প কি পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন, নাকি ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে—তার উত্তর সময়ই দেবে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ