পাকিস্তানের পাঞ্জাবে টানা বৃষ্টিতে ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৭, আহত ২০

ছাদধস, পানিতে ডুবে মৃত্যু ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টসহ একাধিক দুর্ঘটনা; প্লাবিত প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা, বন্যা সতর্কতা জারি

by ABDUR RAHMAN
পাকিস্তানের পাঞ্জাবে টানা বৃষ্টিতে নিহত ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে টানা ভারি বর্ষণ ও বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। প্রবল বর্ষণে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গবাদিপশুরও প্রাণহানি ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রদেশজুড়ে বৃষ্টিজনিত অন্তত ১৪টি দুর্ঘটনার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ঘর ও ভবনের ছাদ ধসে পড়া, পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়ার মতো ঘটনা।

টানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন নালা উপচে পড়ায় পাঞ্জাবের প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষিজমি, গবাদিপশু ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চেনাব ও রাভি নদীর পানি মাঝারি থেকে উচ্চ বন্যা পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

লাহোরে চারটি পৃথক ছাদধসের ঘটনায় এক পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুসহ তিনজন নিহত হন। আহত হন আরও পাঁচজন। ঘটনাগুলো ঘটেছে ববি প্লাজা, গাড়ি শাহু রেলওয়ে কলোনি, সাগিয়ান পিন্দ এবং কাহনা এলাকায়।

কাসুর জেলার দেপালপুর রোডের আদ্দা ধিং শাহ এলাকায় একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক পুরুষ ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী ও দুই শিশুসহ আরও তিনজন আহত হন। ফয়সালাবাদে একই ধরনের আরেকটি ছাদধসের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে গুজরানওয়ালার পাঠান কলোনির কাছে বৃষ্টির পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাহাওয়ালনগরে ছাদধসে তিনজন আহত হন। একই জেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও একজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া নারোয়াল, সিয়ালকোট, নানকানা সাহিব ও শেখুপুরার বিভিন্ন এলাকায় ছাদধসের পৃথক ঘটনায় নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ওকারায় একটি পশুর খামারের ছাউনি ধসে আরও দুইজন আহত হন।

পিডিএমএর মহাপরিচালক উমর আব্বাস বলেছেন, চলমান বর্ষণ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত পাঞ্জাবে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। রাভি ও শতদ্রুসহ প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। তবে গুজরানওয়ালা ও রাওয়ালপিন্ডি বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নারোয়ালের ডেক নালার ভাঙন এবং শেখুপুরার একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামত করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ পর্যন্ত পাঞ্জাবজুড়ে বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২২ জনের মৃত্যু এবং ১৮৩ জন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে চলমান মৌসুমি বৃষ্টির কারণে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন আরও ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকা, নদীতীরবর্তী অঞ্চল এবং দুর্বল অবকাঠামোসমৃদ্ধ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ডন

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ