মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ–এর সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে লেবানন সরকার।
সোমবার (২ মার্চ) দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাঠামোর বাইরে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত যেকোনো সামরিক তৎপরতা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেন, “সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দলটিকে রাষ্ট্রের কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করতে হবে।”
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রকেট হামলার ঘটনা। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ সম্প্রতি ইসরায়েল–এর দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। সরকারের অভিযোগ, এই হামলার আগে রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “হিজবুল্লাহর এই বেপরোয়া তৎপরতা লেবাননের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন।” তারা স্পষ্ট করেন, লেবাননের অবস্থান যেকোনো ধরনের সংঘাতের বিপক্ষে এবং সরকার যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতিতে অটল।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে অর্জিত যুদ্ধবিরতির প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সালাম। পাশাপাশি তিনি উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও বলেছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, হিজবুল্লাহর বড় অস্ত্রভাণ্ডার ও সুসংগঠিত সশস্ত্র বাহিনী এখনো অক্ষত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লেবানন সরকারের পাশাপাশি গোষ্ঠীটি একটি সমান্তরাল শক্তি হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
এদিকে লেবানন সরকারের এই ঘোষণার মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার ঘোষণা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আর/

