ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের ফলাফলের কিছু অসংগতি থাকায় ভোটের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করার জন্য আবেদন করেছেন বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে তিনি লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনে কাইয়ুম উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে ভোটগ্রহণ ও গণনার পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঘোষিত ফলাফল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO, 1972) এবং নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
আইনগত ভিত্তি
১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ধারা ৩১ ও ৩৭ অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে।
২. ধারা ৪২ ও ৪৩ অনুযায়ী ভোট গণনার সময় প্রার্থী ও এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক এবং গণনার স্বচ্ছতা রক্ষা করা আবশ্যক।
৩. ধারা ৪৪এ ও ৪৪ই অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণার আগে সঠিকভাবে ব্যালট গণনা ও আপত্তিকৃত ভোট নিষ্পত্তি করা জরুরি।
৪. ধারা ১১ ও ১৪ অনুযায়ী, গুরুতর অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত হলে তা আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জযোগ্য।
৫. নির্বাচন কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ ও ১১৯ অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা ও তদারকির পূর্ণ ক্ষমতা রাখে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার দায়িত্ব বহন করে।
অভিযোগিত অনিয়মসমূহ
১. প্রায় সব ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ১৫ থেকে ৫০টি করে বৈধ ভোট অযৌক্তিকভাবে বাতিল (rejected) করা হয়েছে। সম্মিলিত হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৩,৫০০ ভোট পদ্ধতিগতভাবে বাতিল হয়েছে।
২. নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক ভোট বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বেরাইদ এ কে এম রহমতউল্লাহ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে গভীর রাতে ১,২০০ এবং রামপুরা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রায় ১,৫০০ ভোট অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে। এই দুই কেন্দ্রে মিলিতভাবে প্রায় ২,৭০০ ভোটের কারচুপি ইঙ্গিতবাহী।
৩. বাড্ডা হাই স্কুল কেন্দ্রে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়, ফলে ধানের শীষ প্রতীকের ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়।
৪. বিভিন্ন কেন্দ্রের গণনার সময় প্রার্থীর এজেন্টদের বাধা দেওয়া বা বহিষ্কার করা হয়েছে।
৫. ফলাফল বিবরণী এবং কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাবের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে।
৬. আপত্তিকৃত ভোট যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করে ফলাফল চূড়ান্ত করা হয়েছে, এবং ব্যালট পুনর্গণনার আবেদনও বিবেচনা করা হয়নি।
এই অনিয়মগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা, বৈধতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কাইয়ুমের মতে, পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা ও ভোট পুনর্গণনা করা ন্যায়সঙ্গত ও প্রয়োজনীয়।
কাইয়ুমের ইসির প্রতি আবেদন
১. ঢাকা-১১ আসনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করা হোক।
২. সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে অবিলম্বে পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হোক।
৩. প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়ম যাচাই করা হোক।
৪. ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ এম কাইয়ুম বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা রক্ষার জন্য বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”
আর/

