গাজীপুর: অনলাইন ডেস্ক
গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত শাপলা কলি মার্কার প্রার্থীর নির্বাচনী শোভাযাত্রায় বাধা, পরিকল্পিত উত্তেজনা সৃষ্টি এবং প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের ওপর গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ী এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান জানান, তাদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী শোভাযাত্রা পোড়াবাড়ী এলাকায় মূল সড়কে পৌঁছালে ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির প্রচারণার মাইকবাহী একটি অটোরিকশা শোভাযাত্রার গতিরোধ করে উচ্চস্বরে মাইক বাজাতে থাকে।
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও উস্কানিমূলক আচরণ অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে শোভাযাত্রা রাস্তা পার হয়ে পোড়াবাড়ী বাজারের দিকে অগ্রসর হলে ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ক্যাডার সুমন সরকার এবং গাজীপুর-২ আসনের এক প্রার্থীর চাচা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ধানের শীষের স্টিকারযুক্ত একটি প্রাইভেট কার দিয়ে প্রার্থীকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়।
জোটের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ধানের শীষের প্রচারণা গাড়ি, পরে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল এবং সর্বশেষ একটি সাদা প্রাইভেট কার দিয়ে ধারাবাহিকভাবে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের ওপর উঠে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় প্রার্থী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও এনসিপি জেলা সদস্য সচিব খন্দকার আল আমিন গুরুতর আহত হন।
১১ দলীয় জোট জানায়, এর আগেও ৩০ জানুয়ারি এরশাদনগর ৫ নম্বর ব্লকের ছোট বাজারে শাপলা কলির প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয় এবং পোড়াবাড়ী বাজারে স্থাপিত প্রার্থী আলী নাছের খানের নির্বাচনী বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এসব ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ, নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে ১১ দলীয় জোট তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হওয়ায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার বলেন,
“আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের জন্য একজন গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোথাও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে দেওয়া হবে না এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা, প্রচারণায় বাধা ও বিলবোর্ড ভাঙচুরের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে দ্রুত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

