আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে চায় ইসরাইল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখনই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সামরিক সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর উপযুক্ত সময়।
নেতানিয়াহুর ভাষায়, ইসরাইল বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পায়। তবে তিনি চান, ভবিষ্যতে এই আর্থিক সহায়তা ধাপে ধাপে কমিয়ে শূন্যে নিয়ে আসা হোক। তিনি বলেন, “আমি চাই না পরবর্তী কংগ্রেস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। আমি এখন থেকেই নতুন কাঠামো শুরু করতে চাই।”
বর্তমানে ২০১৮ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা চুক্তি কার্যকর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলকে সহায়তার বিষয়ে দ্বিদলীয় সমর্থন থাকলেও, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর সেই সমর্থনে ভাটা পড়েছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক এখন ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রভাব ও অপপ্রচারের কারণেও ইসরাইলের প্রতি জনমত নেতিবাচক হয়েছে। তবে তিনি সেন্সরশিপের পরিবর্তে তথ্যযুদ্ধ মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকার পক্ষে মত দেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ইরান ইস্যুতেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
ইরানের বর্তমান সরকার দুর্বল হয়ে পড়লে বা পতন ঘটলে, হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথিদের মতো গোষ্ঠীগুলোও দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তবে ইরানের সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “সম্ভব? হ্যাঁ। নিশ্চিত? না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী হওয়ায় দেশটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আর্থিক সহায়তার বদলে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর দিকে এগোতে চাইছে। তবে গাজা যুদ্ধ, ইরান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, সিবিএস নিউজ
আর/

