অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে মুখোশধারীদের গুলিতে মাইনুল ইসলাম মাহিন (২৪) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি জামায়াতের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের আইয়ুবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাহিন বাড়ির সামনে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৪ থেকে ৫ জন মুখোশধারী সেখানে এসে টর্চলাইট জ্বালিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রথম গুলিটি তার ডান পায়ের হাঁটুতে লাগে। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে একই স্থানে আরও একটি গুলি করা হয়।
গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহত মাহিনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শী শাইখুল আরেফিন শিহাব বলেন, “আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ সিএনজিতে করে কয়েকজন এসে মাহিনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।”
বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রহিম দাবি করেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।”
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন এবং উপজেলা আমির মাওলানা আবু জায়েদ এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বেগমগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আহত যুবক সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদে না থাকলেও স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও স্থানীয়দের অনেকে মন্তব্য করেছেন।
আর/

