হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেও মুক্তি নয়! ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে আপিল বিভাগের বড় সিদ্ধান্ত

মিরপুর থানার মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ; আরও একাধিক মামলা থাকায় কারামুক্তিতে জটিলতা

by ABDUR RAHMAN
ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে আপিল বিভাগের বড় সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

বিজ্ঞাপন
banner

সোমবার (১১ মে) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, মিরপুর মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় এর আগে হাইকোর্ট ব্যারিস্টার সুমনকে জামিন দেন এবং এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ না করে জামিন বহাল রাখে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে দেয়।

আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. লিটন আহমেদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই মামলায় জামিন বহাল থাকলেও তার বিরুদ্ধে আরও অন্তত ছয়টি মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলা ও গুলিতে হৃদয় মিয়া নামে এক যুবদল নেতা আহত হন। হৃদয় মিয়া ‘বাঙালিয়ানা ভোজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সহকারী বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হয়ে হৃদয় মিয়ার ডান পায়ের হাঁটুর অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে তার পা থেকে বুলেট অপসারণ করা হয়।

সরকার পরিবর্তনের পর গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর হৃদয় মিয়া বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ব্যারিস্টার সুমনকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ব্যারিস্টার সুমন লিখেছিলেন, তিনি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছেন এবং আদালতে দেখা হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। পরে এ মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরের এই মামলা ছাড়াও রাজধানীর খিলগাঁও ও আদাবর থানায় দায়ের করা পৃথক হত্যা মামলা এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া আরেকটি মামলাতেও ব্যারিস্টার সুমন আসামি রয়েছেন। ফলে আপিল বিভাগে জামিন বহাল থাকলেও তার মুক্তির বিষয়ে এখনই কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ