অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ঢাকার পরিবেশ দূষণ কমানো এবং আশপাশের নদ-নদীর পানির মান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে স্থাপন করা হয়েছিল দাশেরকান্দি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি)। তবে উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণ হয়নি প্রয়োজনীয় পয়ঃবর্জ্য সংযোগ লাইন। ফলে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে নগরীর পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন করতে পারছে না ঢাকা ওয়াসা।
বর্তমানে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মিলিয়ন লিটার পয়ঃবর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর বড় অংশই সরাসরি খাল, লেক ও নদীতে গিয়ে পড়ছে। দাশেরকান্দি এসটিপির মাধ্যমে এর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শোধনের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে সেই সুবিধা এখনো চালু হয়নি। কারণ বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য এনে প্ল্যান্টে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় ‘স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন’ এখনো নির্মিত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে প্ল্যান্ট সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াসা। হাতিরঝিলের বিভিন্ন অংশ থেকে দূষিত পানি পাম্পের মাধ্যমে দাশেরকান্দি প্ল্যান্টে নিয়ে গিয়ে তা পরিশোধন করা হচ্ছে। পরে সেই পানি আবার রামপুরা খালে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে খালের পানির মান কিছুটা উন্নত হলেও প্রকল্পের মূল লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওয়াসা সূত্র জানায়, নতুন সংযোগ লাইন নির্মাণে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এ অর্থায়নের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগের চেষ্টা চলছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক ইতোমধ্যে ওয়াসার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।
অর্থায়ন নিশ্চিত হলে তেজগাঁও, বাড্ডা, বনানী, গুলশান, রমনা, মগবাজার, ইস্কাটন, হাতিরঝিল, কলাবাগান ও ধানমন্ডির অংশবিশেষসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর পয়ঃবর্জ্য সরাসরি দাশেরকান্দি এসটিপিতে নেওয়ার জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। তখন বৃষ্টির পানি ও পয়ঃবর্জ্য আলাদা ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে ওয়াসা।
২০২৩ সালের ১৩ জুন প্রায় ৬২ একর জমির ওপর নির্মিত এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৩ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম একক পয়ঃশোধনাগারটির অর্থায়নের বড় অংশ এসেছে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে। বাকি অর্থ দিয়েছে সরকার ও ঢাকা ওয়াসা।
পরিবেশবিদদের মতে, এসটিপি নির্মাণের পাশাপাশি একই সময়ে পয়ঃসংযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করা উচিত ছিল। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নেতারা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক ছাড়া প্রকল্প চালু করায় জনগণ প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতার কারণে জলাশয়, খাল ও নদীর দূষণও বাড়ছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন করে বালু নদীতে নিঃসরণ করা, যাতে পরিবেশ দূষণ কমে। তবে সংযোগ লাইনের অভাবে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দ্রুত নেটওয়ার্ক নির্মাণ শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, সংযোগ লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হলে দাশেরকান্দি এসটিপি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা সম্ভব হবে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে রাজধানীর শতভাগ পয়ঃবর্জ্য শোধনের লক্ষ্যে পাগলা, রায়েরবাজার, উত্তরা ও মিরপুরে আরও চারটি আধুনিক এসটিপি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আর/

