আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বেরিয়ে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সামনে কার্যকর কোনো ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ দৃশ্যমান নয়।
উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঙ্গরাজ্যের মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান আলোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকা পালন করছে। কখনও আলোচনার আড়ালে সময়ক্ষেপণ করছে, আবার কখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ফলাফলহীন আলোচনায় ব্যস্ত রাখছে।
মের্ৎসের ভাষায়, ইরানি নেতৃত্বের আচরণে একটি পুরো জাতি—যুক্তরাষ্ট্র—অপমানিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।
এদিকে, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল ইসলামাবাদ থেকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট নিরসনে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ এবং ইরানের উচিত নিজ জনগণের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব বিবেচনা করা।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে জার্মানি অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ওয়াডেফুল। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দেশের শাসন পরিবর্তনে বাহ্যিক হস্তক্ষেপের পক্ষেও নয় বার্লিন।
জার্মানির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ইরানে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ দেখতে চাইলেও সেই পরিবর্তন অবশ্যই দেশটির জনগণের মাধ্যমেই আসতে হবে। পাশাপাশি, ইরানের জনগণের ওপর দমন-পীড়নের বিরোধিতা অব্যাহত রাখবে জার্মানি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ প্রায় অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় উদ্যোগ হিসেবে মাইন অপসারণে জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে জার্মানি।
মের্ৎস আরও জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় তিনি এ নিয়ে নিজের উদ্বেগও জানিয়েছেন।
সম্প্রতি শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান ও ওমানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মোড় নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আর/

