অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার জেরে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রোববার (২৬ এপ্রিল) পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবুকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহমেদকে তার পদ থেকে এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবিরকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার রাত ও সোমবার ভোরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে সাজু আহমেদ (৩৬), সোলায়মান কবীর পাপ্পু (৩০) এবং আইয়ুব আলী (৪০) আটক হন।
পুলিশ জানায়, সাজু আহমেদ মামলার ৩ নম্বর আসামি এবং তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব। সোলায়মান কবীর পাপ্পু মামলার ১০ নম্বর আসামি ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। আইয়ুব আলী মামলার ৪০ নম্বর আসামি এবং স্থানীয় কৃষকদলের ওয়ার্ড সভাপতি।
ডিবি পুলিশের ওসি দেবাংশু জানান, ভোরে পূর্বধলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের আদালতে পাঠানো হবে। অপরদিকে পূর্বধলা থানার ওসি দিদারুল ইসলাম বলেন, নারায়ডহর এলাকা থেকে আইয়ুব আলীকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আতকাপাড়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে এমপি মাছুম মোস্তফার ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় তাকে সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনার পর এমপির সহকারী বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া নয়জন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আর/

