ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ‘অকার্যকর’

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি চাপে; ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো এখন নিরাপত্তার বদলে ঝুঁকির কারণ

by ABDUR RAHMAN

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  হুদহুদ নিউজ

ইরান ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে অন্তত এক ডজন ঘাঁটির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, সেগুলো এখন মার্কিন বাহিনীর জন্য সুবিধার বদলে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব ঘাঁটিকে প্রায় ‘বসবাসের অনুপযোগী’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত এই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।

ওয়াশিংটনে আয়োজিত ‘আরব সেন্টার’-এর বার্ষিক সম্মেলনে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক লিঞ্চ বলেন, গত এক মাসে ইরান কার্যত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের অবকাঠামোগুলোকে অকার্যকর করে দিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো সামনে আসছে না।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমানে অবস্থিত এসব ঘাঁটিতে প্রবেশ ও তথ্য প্রকাশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এমনকি আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে হামলায় ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।

মার্ক লিঞ্চ আরও বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার সেনার অবস্থান থাকা এই ঘাঁটিটি এখন এতটাই অরক্ষিত হয়ে পড়েছে যে, সেখানে পুনরায় নৌবহর মোতায়েনের সম্ভাবনা খুবই কম।

মোট হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত প্রায় ১৯টি সামরিক স্থাপনার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকতে পারে। এসব ঘাঁটির বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। তেল ও নিরাপত্তা বিনিময়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই কাঠামো এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিমানবন্দর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ শানা মার্শাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তাভিত্তিক সম্পর্ক এখন অনেক দেশের জন্য সুবিধার বদলে দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

অন্যদিকে বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি মনে করেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এককভাবে নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প কৌশল খুঁজতে পারে। কেউ কেউ ইসরায়েলের দিকেও ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব মার্কিন ঘাঁটি হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে; বরং সেগুলোই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে এগুলো এখন অনেকটা ‘হামলার চুম্বক’-এর মতো কাজ করছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ