ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই নিরস্ত্র হওয়ার প্রস্তাব মেনে নেবে না। তাদের দাবি, এই ধরনের প্রস্তাব মূলত গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রাখার কৌশল।
রোববার (৫ এপ্রিল) এক টেলিভিশন ভাষণে হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জাদিন আল-কাসাম ব্রিগেডস-এর মুখপাত্র আবু উবাইদা বলেন, “এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ ইসরায়েল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত অস্ত্রের বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “হামাসকে নিরস্ত্র করার দাবি আসলে ইসরায়েলের গণহত্যা চালিয়ে যাওয়ার একটি কৌশল।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার আওতায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়েছে। কায়রো-তে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বাস্তবায়ন, গাজায় হামলা বন্ধ এবং ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের স্পষ্ট রূপরেখা না থাকলে কোনো ধরনের নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় তারা যাবে না।
অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হলে তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। ফলে উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে হামাস সরাসরি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেনি। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ হলে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রস্তাবিত ২০ দফার গাজা পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবু উবাইদার সাম্প্রতিক বক্তব্য এই পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক প্রত্যাখ্যান কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গাজায় চলমান পরিস্থিতিও উত্তেজনাপূর্ণ। তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকেই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রোববার গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজা সিটির শেজাইয়া এলাকা এবং খান ইউনিসসহ একাধিক স্থানে গুলি চালানো হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর এখন পর্যন্ত শত শত মানুষ হতাহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষ।
এদিকে লেবাননেও নতুন করে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন আবু উবাইদা। তিনি ইরান, হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য প্রশংসা করেন।
সব মিলিয়ে, গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। উভয় পক্ষের শর্ত ও পাল্টা শর্তের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, আর স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

