জুলাই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক কাজী ইমাম হোসাইন ইলাত: আড়ালে থাকার ব্যাখ্যা ও নৈতিক অবস্থানের বার্তা

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সংগঠক কাজী ইমাম হোসাইন ইলাত সম্প্রতি এক বক্তব্যে আন্দোলন-পরবর্তী বাস্তবতা, নিজের অবস্থান এবং আড়ালে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

by Master Fatih
জুলাই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক কাজী ইমাম হোসাইন ইলাত

অনলাইন ডেস্ক । হুদহুদ নিউজ

তিনি বলেন, “আড়াল বলতে আমার রক্তে কখনো স্বার্থবাদী, ব্যক্তিবাদী, গাদ্দারী, লবিং সিন্ডিকেট বা তদবিরের মতো কিছু ছিল না।” তাঁর মতে, জুলাই আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল মেধা ও যোগ্যতার ওপর দায়িত্ব বণ্টন, যেখানে ব্যক্তিস্বার্থ বা গোষ্ঠীগত প্রভাবের কোনো স্থান থাকার কথা নয়।

বিজ্ঞাপন
banner

তবে আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, বাস্তবে দেখা গেছে সেই নৈতিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে উপদেষ্টা, সমন্বয়ক এবং রাজনৈতিক নেতাদের একটি অংশ লবিং, সিন্ডিকেট এবং তদবিরের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফল হিসেবে তিনি দাবি করেন, শহীদদের বিচার এখনো নিশ্চিত হয়নি, আহতরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, আর অভিযুক্তদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের পর অনেক সাধারণ কর্মী ও সমন্বয়কের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যেখানে ছাত্র পরিচয়ের বাইরে গিয়ে তারা কর্মজীবীদের মতো জীবনযাপন করছেন—যা নিয়ে সমাজে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কাজী ইমাম হোসাইন ইলাত জানান, তিনি সচেতনভাবেই সততা, নৈতিকতা ও আদর্শকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “সিন্ডিকেটের চোখে আমি আড়ালে থাকলেও সততার প্রমাণে আমি সবার আগে থাকবো, ইনশাআল্লাহ।”

রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন যে, আন্দোলনের পর অনেকেই নিজেদের পূর্বের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করেছেন বা রাজনীতিকে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি তাঁর বিদায়ী ছাত্র সংগঠনকে সম্মান জানিয়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

শেষে তিনি বলেন, “সততা ও আদর্শ নিয়ে যতদিন বেঁচে আছি থাকবো। শহীদদের রক্তের সাথে গাদ্দারী হলে আবার রাজপথে সংগঠক হিসেবে উপস্থিত হবো।”

তার এই বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে আন্দোলনের আদর্শ, বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ