ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় একই সময়ে তীব্র ধূলিঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে লাল আকাশের বিরল ও ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে আঘাত হানা সাহারান ধূলিঝড় পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ন্যারেলের প্রভাবে আকাশ রক্তিম হয়ে ওঠে।
ক্রিট দ্বীপে গত দুই দিন ধরে সাহারা মরুভূমি থেকে আসা লাল ধূলিকণা পুরো এলাকা ঢেকে ফেলে। শক্তিশালী বাতাসের মাধ্যমে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আসা এই ধূলিমেঘ আকাশকে লালচে-কমলা বর্ণ ধারণ করতে বাধ্য করে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ধূলিঝড় এখন মিশর ও লিবিয়ার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাতাসে অতিরিক্ত ধূলিকণার কারণে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে হাঁপানি রোগীদের জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়ক ও আকাশপথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার শার্ক বে এলাকায় সাইক্লোন ন্যারেলের প্রভাবে আকাশ গভীর লাল রঙ ধারণ করে। প্রবল বাতাস লৌহসমৃদ্ধ ধূলা আকাশে তুলে নেওয়ায় কয়েক মিনিটের মধ্যে দিনের আলো অন্ধকারে ঢেকে যায়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মরিচা-লাল মাটি ও শক্তিশালী বাতাসের সমন্বয়েই এই অস্বাভাবিক দৃশ্য তৈরি হয়েছে।

দুই অঞ্চলের এই ঘটনা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভিন্ন রূপ হলেও এর প্রভাব একই—জনজীবনে চরম দুর্ভোগ।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অস্বাভাবিক আবহাওয়ার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: সামা টিভি, দ্য গার্ডিয়ান

