সৌদি আরবে আজ বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এই ঘোষণা সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়েছে।
চাঁদ না দেখতে পারার বিষয়টি মক্কা ও মদিনার মসজিদভিত্তিক ওয়েবসাইট ইনসাইড দ্য হারামাইন নিশ্চিত করেছে। পরে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়। সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতসহ অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও শুক্রবার ঈদ উদযাপন হবে।
চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে উন্নত প্রযুক্তির টেলিস্কোপ ও বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে চাঁদ দেখার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে বিরূপ আবহাওয়া—মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে চাঁদ দেখা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং শাওয়াল মাসের প্রথম দিন শুক্রবার নির্ধারণ করা হলো।
সৌদি আরবে চাঁদ দেখার প্রক্রিয়া বেশ সুশৃঙ্খল। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা এবং ঈদের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব মূলত কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। চাঁদ দেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের হাতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাঁদ দেখার সাক্ষ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রধান বিচারপতি ঘোষণা দেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টই ৩০ রোজা পূর্ণ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
দেশজুড়ে প্রধান ১০টি অঞ্চলে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে বিশেষ কমিটি থাকে। এই কমিটিতে ধর্মীয় আলেম ও বিচারকরা শরীয়াহ মোতাবেক সাক্ষ্য গ্রহণ করেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাঁদের অবস্থান নির্ণয় করেন, এবং সরকারি প্রতিনিধি প্রশাসনিক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকেন।
সৌদিতে চাঁদ পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার খুব বেশি। প্রধানত দুটি মানমন্দির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সুদাইর এবং তুমাইর। সুদাইরের প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ আল-খুদাইরি বিশ্বজুড়ে পরিচিত, এবং তুমাইর মানমন্দির থেকেও প্রতি বছর নিখুঁতভাবে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়াও মক্কা, মদিনা, রিয়াদ এবং কাসিম অঞ্চলেও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টেলিস্কোপ বসানো থাকে।
সাধারণ নাগরিকরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রতি বছর রমজানের ২৯ তারিখে সাধারণ নাগরিকদের চাঁদ দেখার আহ্বান জানায়। যদি কেউ খালি চোখে চাঁদ দেখতে পান, তাকে নিকটস্থ আদালতে গিয়ে বিচারকের সামনে শপথ করে সাক্ষ্য দিতে হয়। সেই সাক্ষ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যের সাথে মিললে তবেই গ্রহণ করা হয়।
চাঁদ দেখার ধাপগুলোও সুসংহত। সূর্যাস্তের আগে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গাণিতিকভাবে চাঁদের অবস্থান নির্ণয় করেন, মাগরিবের পর মানমন্দির এবং সাধারণ মানুষের তথ্য সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। বিচারকরা প্রাপ্ত তথ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে যাচাই করেন। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পর রাজকীয় ফরমান জারি করে এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে ঈদের ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।
সৌদি আরবে এক মাস রোজা রাখার পর, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। ২০২৬ সালে তা শুক্রবার (২০ মার্চ) নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর/

