যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি বা বার্তা বিনিময়ের অনুরোধ ইরান করেনি বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তিনি বলেন, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ইরানের দৃষ্টিতে খোলা থাকলেও, এটি কেবল তাদের শত্রু ও আগ্রাসনে জড়িত দেশগুলোর জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এই নৌপথে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কাছে এই পথ দিয়ে “এক লিটার তেলও” যেতে দেওয়া হবে না।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান কৌশলগতভাবে কিছু দেশের জন্য সীমিত ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছে। পাকিস্তানের একটি ট্যাঙ্কার সফলভাবে প্রণালী অতিক্রম করেছে। ভারতের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে দুটি এলপিজিবাহী জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তুরস্কের ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে একটি জাহাজকে পার হতে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, চীন, ফ্রান্স ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপারের জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। বিশেষ করে চীনের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে তেলের দামে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৬৫ ডলার, বর্তমানে তা ১০৫ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে—যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
ইরান জানিয়েছে, কোন দেশ এই প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে, তা সম্পূর্ণ তাদের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
আর/

