মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে এবার প্রকাশ্যে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বশক্তি রাশিয়া ও চীন। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৬ জনে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই অবস্থানের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানায় রাশিয়া ও চীন। বৈঠকের সময় দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তোলে।
নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংক্রান্ত ‘১৭৩৭ কমিটি’র কার্যক্রম সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয়। রাশিয়া ও চীন এই আলোচনা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে তা ব্যর্থ হয়।
ভোটাভুটিতে ১১-২ ভোটে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। তবে রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত থাকে।
এ সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ করে বলেন,“মস্কো ও বেইজিং তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদার ইরানকে রক্ষা করতে বিশ্বনিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া এই কমিটির কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,“ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্র যারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে না।”
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮২৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৯ জন।
নিহতদের মধ্যে ৬৫ জন নারী ও ১০৬ জন শিশু রয়েছে। হামলায় দেশটির চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরাসরি হামলা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইতোমধ্যে পাঁচটি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ছাড়া বুরজ কালাউইয়া এলাকার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ দুই স্বাস্থ্যকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে নিহত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।
কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আর/

