মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রতিমুহূর্তে আরও ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কুর্দিস্তান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১১২ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৯৬৯ জন। কুর্দিস্তান প্রাদেশিক জরুরি বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বর্তমানে ২৭ জন হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এবং পাঁচজন আইসিইউতে রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় ইরানে মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনে পৌঁছেছে। ইরানের কুর্দিস্তান ও ইলাম প্রদেশে সাধারণ নাগরিকদের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ইলাম প্রদেশে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয় মাস বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
অন্যদিকে লেবাননেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১২ জন চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১০৩ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া লেবাননের মাজদাল এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি অস্ত্রাগারে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
এদিকে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীও চাপের মুখে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরাকের আল আসাদ ও আল হারির বিমানঘাঁটিতে অন্তত আটবার হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থি জোট ‘দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের হেলিপ্যাড ধ্বংস হওয়ার পর দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ‘লেভেল ফোর’ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ‘পুরোপুরি পরাজিত’। তিনি খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের মাধ্যমে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। এদিকে ওকিনাওয়া থেকে রওনা হওয়া প্রায় ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা সম্ভাব্য স্থল অভিযানে অংশ নিতে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা, তাসনিম নিউজ এজেন্সি

