সাইরেন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্কে ঘুমহীন রাত, আশ্রয়কেন্দ্রে দৌড়ে দিন কাটছে ইসরায়েলিদের

by ABDUR RAHMAN

ইরান ও লেবানন থেকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় দখলকৃত ভূখণ্ডজুড়ে দিন-রাত আতঙ্কে কাটছে ইসরাইলিদের জীবন। প্রায় প্রতিদিনই সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠছে, আর সেই শব্দ শোনামাত্রই বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যেতে হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আবার ঘোষণা আসে যে আপাতত বিপদ কেটে গেছে—তখন মানুষ ঘরে ফিরে যায়। তবে কয়েক ঘণ্টা না যেতেই আবার একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিকবার সাইরেন বাজছে। ফলে মানুষকে বারবার ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। এই অবিরাম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক ইসরাইলি সমাজে গভীর মানসিক চাপ তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন
banner

জানা যায়, অনেক সময় এমন ঘটনাও ঘটছে যে সাইরেন বেজে উঠছে অথচ কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আক্রমণই হয়নি। আবার কখনো উল্টো পরিস্থিতিও দেখা যাচ্ছে—ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ছোড়া হলেও সাইরেন বাজছে না। এতে মানুষের মধ্যে আরও বেশি বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরাইলের রাডার ও সতর্কতা ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে কখন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে তা দ্রুত শনাক্ত করা এবং আগেভাগে সতর্ক সংকেত দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাতের মধ্যে ইরান থেকে অন্তত ছয়বার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে লেবানন থেকেও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বারবার সাইরেন বেজেছে। কিছু ড্রোন ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দেশের ভেতরের এলাকায় ঢুকতেও সক্ষম হয়েছে।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ইরান নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে—যেগুলো বিস্ফোরণের পর খণ্ড খণ্ড হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও নতুন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। দুই দিন আগে এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র জেরুজালেমের কাছের বেইত শেমেশ এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতির কারণে ইসরাইলি নাগরিকদের মধ্যে ভয় ও মানসিক চাপ দ্রুত বাড়ছে। দিনের পর দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করতে হওয়ায় অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কখন সাইরেন বাজবে, কখন আশ্রয়কেন্দ্রে দৌড়াতে হবে—এই অজানা আতঙ্কই এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ