মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজারেরও বেশি। গত পাঁচ দিন ধরে দেশজুড়ে দফায় দফায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক হামলায় বহু স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সংঘাতের প্রভাব এখন ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাতায় প্রদেশের দিকে এগোচ্ছিলো। তবে তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা পেরিয়ে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে আসতে দেখা যায়। ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথাসময়ে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করেছে।” এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, হাতায় প্রদেশ তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত এবং সেখানে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। তুরস্ক নিজেও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় দেশটিতে জোটের বিভিন্ন স্থাপনা যৌথভাবে ব্যবহৃত হয়।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর প্রথমবার তুরস্কের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল। আঙ্কারা জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যে কোনো বৈরী তৎপরতার জবাব দেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে—এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছে তুরস্ক।
আর/

