সম্পাদকীয় : ফাতীহ মুহাম্মাদ সোলাইমান
রাজনীতির মূল দর্শন হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বশীল প্রতিযোগিতা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভিন্নমতকে প্রতিপক্ষ নয়—শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার এক ভয়াবহ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। সভা-সমাবেশে বাধা, গ্রেপ্তার, মামলা, হয়রানি—এসব আজ রাজনৈতিক শব্দভাণ্ডারের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠেছে। এতে রাজনীতি যেমন কলুষিত হচ্ছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এ অবস্থায় সামনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আয়োজন নয়; এটি হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণের পরীক্ষা। নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তাহলে তা কেবল একটি সরকার নয়—পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামোকেই দুর্বল করে দেবে। জনগণের ভোটাধিকার যদি বাস্তব অর্থে প্রয়োগের সুযোগ না পায়, তবে নির্বাচন কাগুজে বৈধতা পেলেও নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতিতে সহিংসতা চায় না। মানুষ চায় নিরাপদ জীবন, ন্যায্য অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—এই জাতি পরিবর্তনের জন্য বারবার রাস্তায় নেমেছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে। কাজেই জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদে কোনো শাসনই টেকসই হতে পারে না।
রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহলকে এখনই উপলব্ধি করতে হবে—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু ইতিহাসের রায় চূড়ান্ত। হিংসা দিয়ে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলেও আস্থা দিয়ে রাষ্ট্র গড়া যায়। রাজনৈতিক সহনশীলতা, ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থাই পারে জাতিকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত করতে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো—রাজনৈতিক সংলাপের পথ উন্মুক্ত করা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী পরিবেশকে ভয়মুক্ত করা। ভিন্নমত দমন নয়, বরং ভিন্নমতের সহাবস্থানই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
বাংলাদেশ কি হিংসার রাজনীতির অন্ধকারেই আটকে থাকবে, নাকি গণতন্ত্রের আলোয় এগিয়ে যাবে—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে আগামীর নির্বাচন এবং আজকের সিদ্ধান্তগুলো। ইতিহাস আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে; এখন দেখার বিষয়, আমরা কোন পথ বেছে নিই।
লেখক: সম্পাদক, হুদহুদ নিউজ

