অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঐক্যবদ্ধভাবে সফল করার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে এ কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে জোটটি।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের কাছে জোটের অবস্থান তুলে ধরেন।
নেতারা বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, তারাও এ কর্মসূচিতে যুক্ত হবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের সূচনা হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের দায়িত্ব পালনের প্রথম ১৮০ দিনে অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পনার কারণে জনভোগান্তি বেড়েছে। তার অভিযোগ, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার না করে সাফল্যের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া, সার সংকট এবং চাঁদাবাজির মতো সমস্যা জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। কৃষক সার সংকটে পড়েছেন এবং ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তা কার্যকর করেনি বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, সরকারের এই অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা-বাণিজ্য উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, তাদের কর্মসূচির প্রধান দাবি হলো গণভোটে দেওয়া জনগণের রায় বাস্তবায়ন। তাদের অভিযোগ, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, লংমার্চের অন্যতম দাবি হলো জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের দাবিও রয়েছে।
নেতারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করায় সরকারের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, জনগণের মতামত ও জুলাই সনদের বিষয়টি উপেক্ষা না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে শুধু সংশোধনের পথে গেলে এর পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন তারা।
ভারত নীতিতেও পরিবর্তনের দাবি
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও আলোচনা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ভারতকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রেখে দুই দেশের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
গঙ্গার পানি চুক্তি, অন্যান্য নদীর পানি বণ্টন, সীমান্তে হত্যা ও ‘পুশ-ইন’সহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে নতুন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ
১১ দলের নেতারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হচ্ছে।
তাদের আরও অভিযোগ, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ করা হয়েছে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। সরকার জুলাই সনদ, গণভোট ও জনগণের কাছে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না বলেও দাবি করেন তারা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করলে সংসদের বাইরেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১১ দল এ বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চে জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা এলে তা গণতান্ত্রিকভাবে মোকাবিলা করে কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

