ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ: বিএনপি

by ABDUR RAHMAN

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

দলটি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে তারা দুর্নীতির সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করবে না এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সুদূরপ্রসারী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞাপন
banner

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহার ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি মনে করে, সুশাসন উন্নয়নের মূল ভিত্তি। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি হবে ইনসাফ। সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতি ও অর্থপাচার দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার—প্রতিষ্ঠা করা হবে। দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।’

ইশতেহারে দাবি করা হয়েছে, বিএনপির সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ একসময় দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে মুক্তি পায়। এতে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। কিন্তু ২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা ছাড়ার আগেই দেশটি ওই অপবাদ থেকে মুক্ত হয়ে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না। সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টানতে পদ্ধতিগত ও আইনগত সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। উন্মুক্ত দরপত্র, রিয়েল-টাইম অডিট, প্রকল্পের পারফরম্যান্স অডিট এবং সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থপাচার রোধ ও ফ্যাসিবাদী আমলে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আইনের শাসনের নামে কোনো কালাকানুন বা বেআইনি নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয়, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে। জুলাই–আগস্ট ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানসহ ফ্যাসিবাদী আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেধাভিত্তিক মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ গড়তে স্বচ্ছভাবে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পিএসসি শক্তিশালীকরণ, দলীয়করণমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত বিচারপ্রাপ্তি এবং বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন, জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং পুলিশকে জনবান্ধব ও সেবামুখী করে গড়ে তোলার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ