ইলমি জীবনে ধীরস্থিরভাবে সমালোচনা করা তালিবুল ইলমের জন্য অত্যন্ত জরুরি: শায়খ হামযা বাকরি

by AMIRUL ISLAM

শায়খ হামযা বাকরি। আরববিশ্বের প্রধানসারির গবেষক আলেম। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিতাব রচনা করেছেন, বিশ্বখ্যাত বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ইলমে হাদীস, ইলমে কালাম ও আকীদা শাস্ত্রে তার পাণ্ডিত্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তার ইলম অর্জনের গল্প ও তুরস্কে আগমনের কারণসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আবদুল্লাহ বারদাকচি। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন মাওলানা মুহাম্মদ বিন তৈয়ব। 

প্রশ্ন: উস্তাদ, আপনার সাথে কি পরিচিত হতে পারি?

বিজ্ঞাপন
banner

উত্তর: জি, আমার নাম হামযা বাকরি। আমি জন্মসূত্রে জর্ডানের তবে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। জর্ডানেই স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও হাদীসের উপর পিএইচডি সম্পন্ন করেছি। আমার থিসিস পেপার এখন প্রকাশিত হয়েছে যার নাম “تعدد الحادثة في روايات الحديث النبوي”।

পিএইচডি করার আগে থেকেই আমার ইলমে কালাম ও আকীদা অধ্যয়নের প্রতি আগ্রহ ছিল, কিন্তু পিএইচডির পর আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অধিকাংশ কাজ কালাম ও আকীদা নিয়ে।

প্রশ্ন: উস্তাদ, জর্ডানে ইসলামি শিক্ষার পদ্ধতি কেমন?

উত্তর: একাধিক পদ্ধতি আছে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি এবং আধুনিক একাডেমিক পদ্ধতি আছে। আর ২০-৩০ বছর আগে আমরা যখন পড়াশোনা করি, তখন ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি জর্ডানে দুর্বল ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটির অনেক উন্নতি হয়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী মাদরাসাগুলোর ভীত মজবুত হয়েছে। আমার পড়াশোনার সময়ে ইলমি তুরাসি শিক্ষার দুর্বলতার কারণে আমি বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি। আমার অনেক কষ্ট করে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে উস্তাদ বা শায়খ খুঁজতে হয়েছে।

প্রশ্ন: ঐতিহ্যবাহী তুরাসি ইলমিধারায় কী কী অসুবিধা ছিল?

উত্তর: জর্ডানে ওয়াকফসম্পত্তি, মাদরাসা কিংবা ইসলামি ইলম শিক্ষার জন্য বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা বা ব্যক্তি ছিল না। তবে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ছিল ভিন্ন; অর্থাৎ একাডেমিক শিক্ষাব্যবস্থা সেখানে বেশ শক্তিশালী ছিল। যদিও একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে কিছু ইতিবাচক দিক বিদ্যমান আছে, তবু শায়খকেন্দ্রিক ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক থেকে তা বঞ্চিত ছিল। সেই অনুপস্থিত দিকগুলোর শূন্যতা আমি গভীরভাবে অনুভব করতাম। একাডেমিক শিক্ষার ইতিবাচক দিকগুলোর সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ইলমি তুরাসের সেই গুণাবলি যুক্ত করতে প্রবল আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু বাস্তবে একাডেমিক শিক্ষার বাইরের সেই ইতিবাচক দিকগুলো সহজে অর্জন করা সম্ভব হতো না; বরং সেগুলোর সন্ধান পেতে বেশ কষ্ট করতে হতো।

সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়ার সুযোগ হতো জর্ডানে আগত শায়খ ও আলেমদের থেকে। যেমন, গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন সম্মেলন উপলক্ষে কিছু উস্তাদ ও শায়খ জর্ডানে আসতেন, তখন তাদের থেকে উপকৃত হওয়া যেত। আবার ইরাক অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হলে সেখানকার কিছু আলেম জর্ডানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন; পরবর্তীতে সিরিয়া থেকেও অনুরূপভাবে বহু আলেম আসেন। এসব ঘটনা ঐতিহ্যবাহী শায়খকেন্দ্রিক ইলমি তুরাস অর্জনের জন্য আমাদের এক বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।

প্রশ্ন: উস্তাদ, আপনি কখন থেকে শিক্ষকতা শুরু করেছেন?

উত্তর: ঐতিহ্যবাহী মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষকতা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সাল থেকে, তখন আমি স্নাতকোত্তর পড়ছিলাম। ঐতিহ্যবাহী ইলমি তুরাস বেগমান করার লক্ষ্যে সেই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জর্ডানের একজন উস্তাদ। আমি স্নাতকোত্তর পড়ার সময় সেই মাদরাসায় হাদীস ও আকীদার দরস দিতাম। আর একাডেমিক শিক্ষকতা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে ইস্তাম্বুলের সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

প্রশ্ন: আমরা জানি এবং আপনিও একটু আগে বলেছেন, আপনি স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি সবকিছু হাদীস বিভাগে। অথচ এখন আকীদা ও কালাম বিভাগে পড়ান। এটা কীভাবে হলো, আপনার মধ্যে কি কোনো পরিবর্তন হয়েছিল?

উত্তর: এটি কোনো পরিবর্তন নয়; বরং কিছু রচনা ও তাহকীকের কাজে আমি এখনো হাদীস অধ্যয়নে অব্যাহত আছি। তবে শিক্ষকতার ক্ষেত্রে আমার অধিকাংশ শ্রম ইলমে কালামের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। আমার দৃষ্টিতে এটি পরিবর্তন নয়, বরং সংযোজন। অর্থাৎ হাদীসকে মূল তাখাসসুস হিসেবে রেখে তার সঙ্গে কালামকে আরেকটি তাখাসসুস হিসেবে যুক্ত করেছি। প্রকৃতপক্ষে হাদীসে স্নাতকোত্তর শুরু করার আগেই কালাম ছিল আমার ব্যক্তিগত আগ্রহের জায়গা।

কারণ আমার স্নাতক পর্যায়ের অধ্যয়ন ছিল মূলত উসূলুদ্দীনে; যেখানে হাদীস ও আকীদা- উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার সময় জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ে কালাম ও আকীদায় পৃথক তাখাসসুসের ব্যবস্থা ছিল না। সে কারণে হাদীসেই স্নাতকোত্তর শুরু করি। এতে এমন নয় যে পরিস্থিতি আমাকে কালাম থেকে সরিয়ে হাদীসে প্রবেশ করিয়েছিল; বরং হাদীসের প্রতিও আমার যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। প্রকৃত সত্য হলো- হাদীস ও কালাম উভয়ই আমার কাছে সমানভাবে কাম্য ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

প্রশ্ন: উস্তাদ, আপনি কীভাবে এবং কখন তুরস্কে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

উত্তর: মূলত আল-ফাতিহ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার আগে দুইবার সম্মেলনে তুরস্কে এসেছিলাম। ২০০৮ সালে সিভাসে এবং ২০১০ সালে দিয়ারবাকিরে। উভয় সফরে ইস্তাম্বুল হয়ে গিয়েছিলাম এবং সেখানে কিছু সময় বসেছিলাম। তাই কাজের আগে থেকেই তুরস্কের প্রতি টান ও ভালোবাসা ছিল। তারপর কাজের সুযোগ এলে কোনো দ্বিধা ছাড়াই সম্মত হয়েছি।

প্রশ্ন: উস্তাদ, তাহলে তুরস্কে আসার আগ্রহের কারণ কী, অথচ জর্ডানেও ইসলামি শিক্ষা ছিল?

উত্তর: অন্য দেশের তুলনায় তুরস্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, তুরস্কের গৌরবময় ইতিহাস। এটি আমাদের হারানো ইসলামি খিলাফতের রাজধানী এবং একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক সভ্যতার কেন্দ্র।

দ্বিতীয়ত, বর্তমান বিশ্বে তুরস্ক আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কারণ অনেক আরব দেশে সালাফি ধারার প্রভাব ঐতিহ্যবাহী সুন্নি ধারাকে দুর্বল করে ফেলেছে। আরও নির্ভুলভাবে বললে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাযহাবভিত্তিক সুন্নি ঐক্যে ফাটল ধরেছে। পক্ষান্তরে, তুরস্ক এখনো তার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুন্নি ধারার প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

তৃতীয়ত, এটি একটি ব্যক্তিগত কারণও বটে- সম্ভবত মাযহাবগত দৃষ্টিকোণ থেকে। আমি হানাফি, তুরস্কের মুসলমান সমাজও প্রধানত হানাফি। জর্ডানে তুলনামূলকভাবে শাফিয়ি পরিবেশ বেশি পরিলক্ষিত হলেও তুরস্ক স্পষ্টভাবে হানাফি ঐতিহ্যের ধারক। এর সঙ্গে ইমাম কাউসারির সঙ্গে আমার আত্মিক ও চিন্তাগত সংযোগের বিষয়টিও যুক্ত। আমি কাউসারি ধারার অনুসারী এবং তার কিছু গ্রন্থ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সম্ভবত এই আত্মিক রিশতা তুরস্কের প্রতি আমার বিশেষ আকর্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন: তুরস্ককে জ্ঞানগত ও একাডেমিকভাবে কীভাবে পেয়েছেন?

উত্তর: কর্মতৎপরতার দিক থেকে যেমন সম্মেলন, মুহাযারা-সেমিনার, ওয়াকফভিত্তিক খিদমত, মাদরাসার আধিক্য- এটি অন্তত জর্ডান থেকে অনেক বেশি সক্রিয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও বহুগুণ বেশি। তুরস্কে জ্ঞানগত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে একটি বৈশিষ্ট্য হলো- ঐতিহাসিক ইলমি গবেষণার প্রতি যত্ন ও মনোযোগ, জ্ঞানগত বিষয়গুলোর তাহরীরি বা বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়নের তুলনায় প্রবল। অর্থাৎ তারা যখন কোনো শাস্ত্র বা বিষয় অধ্যয়ন করেন, তখন সেই বিষয়কে ঘিরে তার ঐতিহাসিক বিকাশ, পর্যায়ক্রমিক অগ্রগতি ও প্রেক্ষাপটগত আলোচনায় বেশি মনোযোগ দেন। এই দিক থেকে আমি সেখানে যথেষ্ট গভীরতা লক্ষ্য করেছি।

তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, মতভেদগুলোর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, বিভিন্ন চিন্তাধারার প্রবণতা, যুক্তিপ্রদান, এবং সিদ্ধান্তমূলক উপলব্ধি ও ইস্তিনবাতের ক্ষেত্রে- অর্থাৎ নির্দিষ্ট ইলমি মাসআলাগুলোর তাহরীরি ও নকদের ক্ষেত্রে- সেই তুলনায় গভীরতা তুলনামূলকভাবে কম।

নিশ্চয়ই এই পদ্ধতির একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে, আবার অন্যদিক থেকে সীমাবদ্ধতাও আছে। যেমনটি অন্য পদ্ধতির ক্ষেত্রেও দেখা যায়- সেগুলোরও একদিকে ইতিবাচক দিক আছে, আবার অন্যদিকে কিছু নেতিবাচক দিকও অনিবার্যভাবে বিদ্যমান।

প্রশ্ন: উস্তাদ, তালিবুল ইলমদের সাধারণভাবে কী উপদেশ দেবেন?

উত্তর: আমি তাদেরকে প্রথমত মুতাওয়ামা-নিয়মতান্ত্রিকতার উপদেশ দিই। কারণ, নিয়মতান্ত্রিকতা ছাড়া সবকিছু নষ্ট হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে যতই দক্ষতা অর্জন করুক, যদি নিয়মতান্ত্রিক চর্চা না থাকে এবং ভবিষ্যতে তা বৃদ্ধি না করে, তাহলে সকল প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে। অর্থাৎ ইলম অর্জনের প্রথম শর্ত নিয়মতান্ত্রিক চর্চা।

তারপর ধারাবাহিকতা রক্ষা। তালিবুল ইলমের জন্য আবশ্যক যে পদ্ধতিগত শৃঙ্খলা অনুসরণ করা জরুরি তা হলো, সহজতম গ্রন্থ দিয়ে শুরু করবে তারপর মাধ্যমিক গ্রন্থ তারপর আরও উচ্চতর, এভাবে ইলমের স্তর অতিক্রম করা। এভাবে নিয়মতান্ত্রিক ধারাহিকতা অনুসরণের মধ্য দিয়ে তালিবুল ইলম নির্দিষ্ট কোনো শাস্ত্রে ব্যক্তিগত ঝোঁক, আগ্রহ ও মানসিক মিল খুঁজে পাবে। তাহলে সে সেই শাস্ত্রেই তাখাসসুস করবে।

তবে যদি কোনো শিক্ষার্থী হাদীস, কালাম, ফিকহ বা তাফসীরের প্রতি আগ্রহ অনুভব করে, তাহলে তাকে যাচাই করতে হবে যে, সে কি সত্যিই সেই শাস্ত্রে গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম, নাকি অন্য কোনো শাস্ত্রে তার গভীর সক্ষমতা বেশি। যদি নিজের আগ্রহের বিষয়েই গভীরে যেতে পারে, তবে তাতে কোনো বাধা নেই, সেটিই সে নিজের জন্য নির্বাচন করবে। আর যদি গভীরে প্রবেশ করতে গিয়ে উপলব্ধি করে যে, এই শাস্ত্রটি আসলে তার জন্য উপযুক্ত নয়, তাহলে সে তা বুঝে নিয়ে অন্য উপযুক্ত শাস্ত্রের দিকে অগ্রসর হবে।

তালিবুল ইলমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইলমি জীবনে সমালোচনার ক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া এবং সমালোচনাযোগ্য বিষয় একবার, দুইবার, তিনবার; বারবার পড়ে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করা। অর্থাৎ অন্যদের ইলমি বক্তব্য সমালোচনার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা, হোক তিনি পূর্ববর্তী আলেম বা পরবর্তী আলেম।

বক্তব্যকে বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করাও জরুরি। হতে পারে তিনি কোথাও ভুল করেছেন, আবার হতে পারে বক্তব্যের ভেতরে সূক্ষ্ম সমাধান নিহিত আছে, কিংবা ভিন্ন কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানো সম্ভব। এসব সম্ভাবনা যাচাই করার মধ্য দিয়েই সমালোচনার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়।

কারণ, আমাদের সময়ের অন্যতম সমস্যা হলো, আমরা কোনো না কোনো প্রান্তে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে ফেলি। হয় সমালোচনায় এমন বাড়াবাড়ি করি যে বিপক্ষের যুক্তি ও পদ্ধতি বোঝার চেষ্টাই করি না। অথবা পক্ষপাতিত্বে এমন বাড়াবাড়ি করি যে, প্রতিটি ভুলের জন্য ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ফেলি এবং ভুল যত মারাত্মকই হোক না কেন, তা অস্বীকার করে বসি।

তালিবুল ইলমের জন্য সমালোচনার গুণ অর্জন নিঃসন্দেহে অত্যন্ত জরুরি; তবে এই ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন ধৈর্য, ধীরস্থিরতা এবং বক্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিকবার ঝালাই করা। পাশাপাশি সেই বক্তব্যের সম্ভাব্য সব ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করা আবশ্যক।

সমালোচনার প্রকৃত অর্থই হলো অনুসন্ধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সুতরাং কেবল অভিযোগ আরোপ করা বা ভুল প্রমাণ করাকেই সমালোচনা বলা যায় না। সমালোচনার বৈশিষ্ট্য হলো, কোনো মাসআলা বা বিষয়কে গভীর অনুসন্ধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক উভয়ই স্পষ্ট করা। তাই আমি তখনই প্রকৃত অর্থে সমালোচক হিসেবে বিবেচিত হবো, যখন কোনো গ্রন্থ থেকে তার ইতিবাচক দিক এবং নেতিবাচক দিক- উভয়ই উল্লেখ করে তার হক আদায় করতে পারব।

(সাক্ষাৎকারটি ২০১৮ সালের। এরপর শায়খ হামযা বাকরি ইবনে খালদুন ইউনিভার্সিটি হয়ে বর্তমানে ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি তামকিন-উসুলসহ একাধিক মাদরাসায় পাঠদান করেন।)

সূত্র: রিবাতুল ইলম পেজ।

আবুআ/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ