পানিতে ভাসছে কোটি টাকার আইফোন! হরমুজ প্রণালিতে জাহাজডুবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা; উত্তেজনা বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক তেল ও পণ্য সরবরাহে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি।

by ABDUR RAHMAN
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজডুবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

​কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মালিকানাধীন ও সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ ডুবে গেছে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর আশপাশের সাগরে আইফোনের শত শত বাক্স এবং দামি সুগন্ধির প্যাকেট ভাসতে দেখা গেছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় ছোট ছোট নৌকায় করে এসে মানুষ সমুদ্র থেকে এসব পণ্য কুড়িয়ে নিচ্ছেন। তবে জাহাজটি ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনায় পড়ল—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও মতভেদ।

বিজ্ঞাপন
banner

​প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের ওই কন্টেইনার জাহাজটি দুবাই থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কন্টেইনার মালামাল নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে এটি সাগরে তলিয়ে যায়। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর জাহাজটিতে থাকা ২১ জন নাবিকের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

​জাহাজডুবির কারণ নিয়ে বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় নৌ-মাইনে আঘাত পেয়ে জাহাজটি ডুবে যায়। তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, কোনো একটি অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

​যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)-এর দেওয়া তথ্য মতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক ট্যাংকার ও জলযানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্তত পাঁচটি পৃথক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর তলিয়ে যায়।

​ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের পথ ধরেই হরমুজ প্রণালিতে এমন হামলার ঘটনা ঘটছে। কিছুদিন আগে ওমান উপসাগরে ইরানের একটি নজরদারি জলযানে হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। অপরদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি ও হামলা জোরদার করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

​ইরানি দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম চড়া রাখা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই ইরান নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশ্বে পরিবাহিত তেল ও এলএনজির বিরাট অংশ যে প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে প্রতিনিয়ত হামলা ও জাহাজডুবির ঘটনা পুরো বিশ্বের সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য সান

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ