গাজা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মতবিরোধ প্রকাশ্যে, প্রত্যাখ্যাত ১৫ দফা পরিকল্পনা

‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবের কিছু অংশ গ্রহণযোগ্য, কিছু নয়—ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানালেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

by ABDUR RAHMAN
গাজা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মতবিরোধ প্রকাশ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বিজ্ঞাপন
banner

রোববার (৯ আগস্ট) নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে না। হামাসকে ‘প্রকৃত অর্থে’ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি। খবর রয়টার্স ও আল জাজিরার।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল হামাসকে শুধু নামেমাত্র নয়, কার্যকরভাবে নিরস্ত্র ও ভেঙে দিতে চায়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কিছু প্রস্তাব ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও কিছু প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনায় গাজ্জায় যুদ্ধ বন্ধ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। তবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, হামাস অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে সে সময়ও ইসরায়েল হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল।

বর্তমানে মূল বিরোধের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ক্রম। ইসরায়েল বলছে, হামাস সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হওয়ার আগে তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না। অন্যদিকে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় এই শর্তের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজ্জায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৬ আগস্ট সৌদি আরব, মিসর, কাতার, তুরস্ক, জর্ডান, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ গাজায় ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি উগান্ডার পার্লামেন্ট গাজায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীতে সেনা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

তবে এসব উদ্যোগের পরও গাজা নিয়ে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটেনি। নেতানিয়াহুর সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে। ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আরও আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ